প্রতি বছর জিলহজ মাসের দশম দিন পবিত্র হজ পালিত হয়ে থাকে। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলিম নরনারীর ওপর এই ইবাদত ফরজ। তবে ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা ও অন্যান্য হিসাব-নিকাশের কারণে প্রতি বছর বিভিন্ন দেশ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে মানুষ হজ পালনে সৌদি আরব যেতে পারেন। কিন্তু দীর্ঘ এই যাত্রায় প্রাকৃতিক বা মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ কিংবা বার্ধক্যজনিত কারণে অনেকেই প্রাণ হারান।
তবে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ হজ পালন করতে গেলেও মৃতের এই সংখ্যাটা খুবই কম। চলতি আবার শুরু হয়েছে হজের মৌসুম। এরই মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। এরইমধ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয় জন হজযাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন।
এক যুগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু কোন বছর? হজে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা প্রতি বছর এক নয়। কোনো বছর কম, আবার কোনো বছর এই সংখ্যাটা বেশি হয়। যেমন ২০২৪ সালে তীব্র দাবদাহের কারণে বহু হাজযাত্রীর মৃত্যু হয়। দ্য ন্যাশনালের হিসাব অনুযায়ী, ওই বছর ১ হাজার ৩০০-র বেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। তাদের অধিকাংশই ছিলেন মিশরের নাগরিক।
এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি হাজি মারা গিয়েছিল ইন্দোনেশিয়ার। দেশটির বার্তা সংস্থা আন্তারা জানায়, ওই বছর সৌদি আরবে হজে গিয়ে ৭৪৮ জন ইন্দোনেশিয়ানের মৃত্যু হয়েছিল।
গত এক যুগের বেশি সময়ের মধ্যে হজে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ২০১৫ সালে। ওই বছর পদদলিত হয়ে ২ হাজার ২২৩ হাজির মৃত্যু হয়েছিল বলে জানায় বার্তা সংস্থা এএফপি। ওই ঘটনার আগে প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর ছিল ১৯৯০। ওই বছর ১ হাজার ৪২৬ হাজির মৃত্যু হয়েছিল।
প্রতি বছর বিভিন্ন কারণে হজযাত্রায় গিয়ে মারা যান অনেকে। এসব মৃত্যুর অধিকাংশই দুর্ঘটনা, বার্ধক্যজনিত কারণ কিংবা স্বাভাবিক। গত বছরও হজে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দাবদাহের কারণে ওই বছর মৃত্যু হলেও তা সংখ্যায় খুবই সামান্য। তবে হজে কোন দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়, তা নির্দিষ্ট করে বলার সুযোগ নেই। বিগত বছরগুলোতে হজে গিয়ে যেসব দেশের নাগরিকের সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে, সেগুলো হলো- ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়া (৩৮৯ জন, অসমর্থিত সূত্র), ২০২৪ সালে মিশর (৬৫৮ জন), ২০২৩ সালে ইন্দোনেশিয়া (৭৪৮ জন), ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়া (৮৯ জন)।
বিগত কয়েক বছরের মধ্যে ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী হাজির মৃত্যু হয়েছে। ওই বছর ১২১ জন হাজির মৃত্যুর হয়েছিল। ২০২২ সালে ২৬, ২০২৩ সালে ১২১, ২০২৪ সালে ৬৫, ২০২৫ সালে ৪৪ এবং চলতি বছর এখন পর্যন্ত ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব বাংলাদেশী হজযাত্রীর অধিকাংশেরই স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

